বেতার স্মৃতি : কুমার শঙ্কর অধীকারি
সালটা ঊনিশ শো নব্বইডি-এক্সিং বিষয়ে প্রথম পরিচয়
তখন থেকেই বিদেশী বেতার
মনের মাঝে বাসা লয়।
খুব কষ্টের দিন ছিল তখন
একটা রেডিও ছিল না মোদের বাড়ি
VOA বাংলা শুনতে যেতাম
পাড়ার এক বন্ধুর জেঠুর বাড়ি।
সকল দেশের বেতারের সাথে
পরিচয় ঘটে একে একে
রেডিও শুনে ঠিকানা লিখে
চিঠি পাঠাই তাদের ডাকে।
চিঠিতে থাকতো মতামত
রিসেপশানও পাঠাতাম লিখে
অনুষ্ঠানগুলিতে তা পড়া হতো
QSL কার্ড পেতাম ফিরতি ডাকে।
এভাবেই ছিল শুরুটা
তারপর নিত্য একসাথে পথ চলা
প্রতি সপ্তাহে কত চিঠি লেখা
সেসব কথা তো যায়না ভোলা।
প্রথম যেদিন বাড়িতে রেডিও এল
খুশীর আনন্দ-জোয়ারে ভাসলো মন
বিশ্ব বেতার হলো আরো কাছের
সকল অনুষ্ঠান হলো আপনজন।
সেই স্বপ্নও একদিন পূরণ হলো
গিয়ে এক শ্রোতা সম্মেলনে
রেডিও কিভাবে দূরকে আপন করে
খুঁজে পেলাম তা, গিয়ে সেখানে।
সালটা ছিল দুহাজার চার
নষ্ট হ’লো আমার বেতার
রেডিও শোনায় পড়লো ভাটা
ভুলেই গেলাম রেডিওর কথা।
আমাদের দশম বিবাহ বার্ষিকী ছিল
গত দু’হাজার পনেরোতে
আমার স্ত্রী পাপিয়া সেদিন
উপহার দিয়েছিল মোর হাতে।
বাক্স খুলে দেখি আমি
নতুন রেডিও, অতি সুন্দর ।
খুশির জোয়ারে চোখে জল এলো
পুরাতন স্মৃতি ছুঁয়ে গেল অন্তর।
তারপর আবার যাত্রা শুরু
সেই পুরাতন পথ ধরে ।
রেডিও শোনা আর লেখালেখি
সব কিছু পেলাম ফিরে।
রেডিও থেকেই জানতে পেলাম
মোবাইল আপস ও ফেসবুকের কথা
তার থেকেই এখন বন্ধু মোর
শত শত নিয়মিত শ্রোতা ।
ডি-এক্সিং রবে, রেডিও রবে
এছাড়া তো, কিছু চাইনা আর ।
"তুমিই বেতার", তাই রেডিও শুনো
সারাদিনে অন্ততঃ একটি বার।
লেখক পরিচিতি :
কুমার শঙ্কর অধিকারীবৈকুন্ঠ সড়ক, শান্তিনগর
কৃষ্ণনগর, নদীয়া, বাংলা, ভারত
More Feature : আশিকের খেরোখাতা